আশুলিয়ায় লাইসেন্সবিহীন  ফার্মেসির ছড়াছড়ি

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫২

সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার, জনপদে গড়ে উঠেছে ওষুধের লাইসেন্সবিহীন শত শত ফার্মেসি বা দোকান। রাস্তার পাশে কিংবা গলির মোড়ে গড়ে উঠা এসব দোকানের অধিকাংশেই নেশা উদ্রেককারী উচ্চমাত্রার ওষুধ মাদক বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চিকিত্সক না হয়েও চিকিত্সা দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ লোকজনের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এসব দোকানদার।

 

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কয়েক লাখ শ্রমিকের বসবাস। কলকারখানায় কাজ করার ফলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেশি। ফলে তারা স্বাস্থ্যসচেতন না হওয়ায় সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাই অসুস্থ হলে অর্থের কথা চিন্তা করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের শরণাপন্ন না হয়ে প্রথমেই তারা ছুটে যান স্থানীয় এসব ওষুধের দোকানদার তথা হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে। আর সেই সুযোগে তাদের নানাভাবে প্রতারিত করেন এসব দোকানদার। ফলে রোগ সারাতে গিয়ে জটিল অবস্থার শিকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের।

 

আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর, ধামসোনা, শিমুলিয়া, পাথালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দোকানমালিকরা নিজেরাই ডাক্তার সেজে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া ছাড়া ওষুধও বিক্রি করছেন। এছাড়া ওষুধের মূল্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের গুনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।

 

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক নামধারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করার জন্য ফার্মেসি মালিকদের উচ্চহারে কমিশন দিয়ে থাকে। এসব ওষুধ সেবন করার কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। আশুলিয়া সদরসহ ইউনিয়নের হাটবাজার কিংবা আবাসিক এলাকার ফার্মেসিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রুটিনমাফিক কখনো পরিদর্শন করেছে এমন কোনো নজির নেই। ফলে অনিয়মই এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। আবার গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষা কুশিক্ষার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা মেয়াদ উত্তীর্ণ নিষিদ্ধ ওষুধ দেদারছে বিক্রি করছেন। ফলে এসব ওষুধ সেবন করে রোগ মুক্তির বদলে রোগী আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ঘুমের ওষুধ কিংবা নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। ফলে এলাকার তরুণ যুবকরা অনায়াসেই নেশাজাতীয় ওষুধ সেবন করছে নির্বিঘ্নে। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েমুল হুদা বলেন, প্রচলিত নিয়মে একটি ফার্মেসিতে ড্রাগ লাইসেন্স ওষুধ বিক্রির জন্য ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো ফার্মেসি নিয়ম না মেনে ব্যবসা করে তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি